ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ সাবিলা নূর এখন সিনেমার রুপালি জগতের বাসিন্দা। ক্যারিয়ারের এক দশক পূর্ণ করে নিজেকে ভেঙে গড়ার খেলায় মেতে ওঠা এই অভিনেত্রী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘তাণ্ডব’-এর অভাবনীয় সাফল্যের পর এখন ব্যস্ত ঢালিউড শীর্ষ তারকা শাকিব খানের সঙ্গে নিজের দ্বিতীয় সিনেমা নিয়ে।
দেখতে দেখতে অভিনয়ের আঙিনায় দশটি বছর পার করে দিয়েছেন সাবিলা নূর। এক সময় যাকে কেবল ‘পাশের বাসার মেয়ে’ কিংবা চঞ্চল প্রেমিকার চরিত্রে দেখা যেত, সেই সাবিলা এখন নিজেকে রূপান্তর করেছেন একজন শক্তিশালী ও বহুমুখী চরিত্রে অভিনয় করতে সক্ষম (ভার্সেটাইল) অভিনেত্রী হিসেবে। ২০১৪ সালে একটি মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই শিল্পী নাটক, বিজ্ঞাপন এবং ওটিটি (ইন্টারনেট ভিত্তিক বিনোদন মাধ্যম) জয় করে এখন থিতু হয়েছেন বড়পর্দায়।
বর্তমানে প্রেক্ষাগৃহে দাপটের সঙ্গে চলছে সাবিলার নতুন সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন ‘চিত্রা’ নামক এক কেন্দ্রীয় চরিত্রে। নির্মাতা তানিম নূরের পরিচালনায় এই সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে সাবিলা নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। সিনেমাটি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স বা আধুনিক প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রতিদিন ‘পুরো ঘর ভর্তি’ (হাউসফুল) দর্শক পাওয়া যাচ্ছে। সাবিলা নিজেও সাধারণ দর্শকের সাথে সিনেমাটি দেখতে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন। তার ভাষ্যমতে, পর্দার ‘চিত্রা’ যখন বাস্তবের মানুষের হাসি-কান্নার সঙ্গী হয়, তখনই একজন শিল্পীর সার্থকতা।
তবে এই সাফল্যের পথ খুব সহজ ছিল না। ছোটপর্দাকে এক প্রকার বিদায় জানিয়ে সাবিলা বড়পর্দায় পা রাখেন ঢালিউড কিং শাকিব খানের বিপরীতে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার মাধ্যমে। প্রথম সিনেমাতেই ‘লিচু বাগান’ গানের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বাণিজ্যিক ধারার পুরোদস্তুর নায়িকা হিসেবে প্রমাণ করেন। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় তিনি পাশে পেয়েছেন একঝাঁক কিংবদন্তি অভিনেতাকে। চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, আজমেরী হক বাঁধন ও শরিফুল রাজের মতো জাঁকালো সহশিল্পীদের সাথে কাজ করাকে তিনি এক প্রকার ‘অভিনয় কর্মশালা’ হিসেবে দেখছেন।
সফলতার এই জোয়ারে ভেসে না গিয়ে সাবিলা এখন ব্যস্ত তার পরবর্তী মিশন ‘রকস্টার’ নিয়ে। আবারো শাকিব খানের বিপরীতে তাকে দেখা যাবে এই সিনেমায়। মালয়েশিয়া ও ঢাকায় সিনেমাটির চিত্রধারণ (শুটিং) চলছে। যদিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কড়াকড়ির কারণে চরিত্র নিয়ে এখনই মুখ খুলছেন না তিনি, তবে জানা গেছে আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে এই সিনেমা। বড়পর্দার পাশাপাশি ‘গোলাম মামুন ২’ নামক একটি ওয়েব সিরিজের বিষয়েও কথা চলছে তার।
সাবিলা নূরের এই উত্তরণ কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা। নাটকের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে সিনেমায় এসে অনেকেই হারিয়ে যান, কিন্তু সাবিলা নিজেকে প্রতিনিয়ত শানিত করছেন। নিজেকে খুঁতখুঁতে সমালোচকের চোখে দেখে আরও ভালো করার যে আকুতি তার মধ্যে রয়েছে, সেটিই তাকে লম্বা রেসের ঘোড়া হিসেবে টিকিয়ে রাখবে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন।