ঢাকাই চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই অভিনেতা এবার বড় পদের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে এফডিসির আঙিনায়। আগামী মেয়াদের জন্য সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। বর্তমান নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় থাকা জয় মনে করছেন, সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শিল্পীবান্ধব করতে সরাসরি নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
তবে জয় এখনই তার পুরো প্যানেল বা সঙ্গী সাথীদের নাম প্রকাশ করতে নারাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময়সূচি (তফসিল) ঘোষণা হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং সভাপতি প্রার্থীর নাম সবার সামনে আনা হবে। সিনিয়র ও জুনিয়র শিল্পীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
নিজের প্যানেল নিয়ে দারুণ আশাবাদী এই নায়ক বলেন, "আমাদের প্যানেল এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যা দেখে সবাই চমকে যাবেন। আমরা কেবল ফাঁকা বুলি দিতে আসছি না; বরং শিল্পীদের কল্যাণে বাস্তবায়নযোগ্য এবং বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি নিয়েই মাঠে নামছি।" তার এই বক্তব্য চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
২০১২ সালে ‘এক জবান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পা রাখা জয় চৌধুরী দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢালিউডে কাজ করছেন। ‘হিটম্যান’, ‘চিনি বিবি’, ‘আজব প্রেম’ এবং ‘অন্তর্জ্বালা’র মতো উল্লেখযোগ্য সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সাধারণ দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। পর্দার কাজের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক কাজেও তাকে বেশ তৎপর দেখা গেছে।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াই যে বেশ জমজমাট হতে যাচ্ছে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে এখনই। কারণ এই একই পদের জন্য ইতোমধ্যেই চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তি নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। মুক্তি বর্তমানে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ২৪ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী জুলাই মাসের শেষ দিকে অথবা আগস্টের শুরুর দিকে বহুল আলোচিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিল্পী সমিতির নির্বাচন বরাবরই বিনোদন জগতের সবচেয়ে আলোচিত ও কখনো কখনো বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। নেতৃত্বের এই রদবদল কেবল চেয়ার দখলের লড়াই না হয়ে যদি সাধারণ শিল্পীদের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হয়, তবেই চলচ্চিত্রের মঙ্গল। জয় চৌধুরী ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিশ্রুতিগুলো নির্বাচনের পর কতটুকু আলোর মুখ দেখে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। শিল্পীরা কি এবার সত্যিকার অর্থেই কাজের মানুষ বেছে নিতে পারবেন?