রাজনীতিতে তারকাদের পদচারণা নতুন কিছু নয়, তবে এবারের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে হতাশ হতে হলো বিনোদন জগতের পরিচিত মুখগুলোকে। আলোচনার কেন্দ্রে থেকেও বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি মনোনয়নপ্রত্যাশী কোনো শিল্পী বা তারকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। গত সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তালিকা ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘ দুই দিনের নিবিড় সাক্ষাৎকার ও সাংগঠনিক বিচার-বিশ্লেষণ শেষে এই মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
ঘোষিত এই তালিকায় রাজনীতির মাঠের সক্রিয় নেত্রী এবং বিভিন্ন আন্দোলনের পরিচিত মুখগুলোর জয়জয়কার থাকলেও শোবিজ বা বিনোদন জগতের কাউকেই দেখা যায়নি। এর আগে দলটির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা ও রিজিয়া পারভীন। এছাড়াও তালিকায় ছিলেন নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী, মডেল মেঘনা আলম এবং আলোচিত অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় থেকেই এসব তারকাদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কারো ভাগ্যেই জোটেনি সংসদের টিকিট।
তালিকায় দেখা গেছে, সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা ও নিলুফার চৌধুরী মনির মতো প্রবীণ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মানসুরা আক্তারের মতো তরুণ ও মাঠ পর্যায়ের নেত্রীরা স্থান পেয়েছেন। বিশেষ চমক হিসেবে এসেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি আন্না মিঞ্জ এবং গোপালগঞ্জের সুবর্ণা শিকদারের নাম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবার তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিনোদন জগতের জনপ্রিয়তার চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগের ইতিহাস এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যার ফলে তারকা হওয়ার বাড়তি সুবিধা এবার কাজে আসেনি। শিল্পীরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে জনপ্রিয় হলেও সংসদীয় রাজনীতিতে ঠাঁই পেতে আরও সময় বা মাঠের সক্রিয়তার প্রয়োজন বলে মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারকরা।
জনপ্রিয় মুখগুলো সংসদে যাওয়া মানেই কি জনগণের সেবা নিশ্চিত হওয়া? এমন প্রশ্ন মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। তবে শোবিজ তারকাদের বাদ দিয়ে রাজপথের কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত দলের তৃণমূলকে শক্তিশালী করার একটি বার্তা হতে পারে। তবে জনপ্রিয় এই শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও জনমতকে ভবিষ্যতে দল কীভাবে কাজে লাগায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।