চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাড়িছেঁড়া ধন ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন এক জননী। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের স্তব্ধতা নেমে এসেছে; বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় গোরস্থানে পাশাপাশি কবরে তাঁদের শেষ বিদায় জানানো হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নে বুধবার রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এলাকার মানুষের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতরা হলেন ওই এলাকার প্রয়াত রূপলালের ছেলে কালু শেখ (৫৫) এবং তাঁর মা ময়না বেগম (৭২)। মা ও ছেলের এমন আকস্মিক প্রস্থানে শোকাতুর স্বজনদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কালু শেখ গত বেশ কিছু দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত আটটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অন্যদিকে, তাঁর মা ময়না বেগমও দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর যখন বাড়িতে পৌঁছায়, তখন শোকাতুর জননী যেন আর সেই ভার সইতে পারলেন না। ছেলের চিরবিদায়ের মাত্র তিন ঘণ্টা পর রাত এগারোটার দিকে তিনিও না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
বৃহস্পতিবার সকালে বারঘরিয়া ইউনিয়নের কাজিপাড়া গোরস্থানে এক জানাজা শেষে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত এলাকাবাসী নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দা আশিক আহমেদ বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জীবনে এমন ঘটনা শুধু গল্পে বা অন্যের মুখে শুনেছেন, কিন্তু নিজের এলাকায় এমন করুণ দৃশ্য দেখবেন তা ভাবেননি।
বারঘরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য) সবুজ মিঞা বিষয়টিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, একই রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যুতে পুরো গ্রাম হতভম্ব হয়ে পড়েছে। সবার মধ্যে এক ধরণের শূন্যতা বিরাজ করছে।
মা ও সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও আত্মিক বন্ধন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, সন্তানের বিচ্ছেদ একজন মায়ের কাছে মৃত্যুর চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক। কালু শেখ ও ময়না বেগমের এই চলে যাওয়া আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, যান্ত্রিক এই জীবনেও পারিবারিক টান ও আবেগ কতখানি প্রগাঢ় হতে পারে। শোকের এই মেঘ কাটিয়ে পরিবারটি যেন পুনরায় শক্তি ফিরে পায়, সেই কামনাই রইল।