২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করেছে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের ৬ জুন থেকে শুরু হতে পারে এই বড় পাবলিক পরীক্ষা, যা জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
আগামী ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশের শিক্ষা প্রশাসন। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে পরীক্ষার একটি খসড়া সময়সূচি (রুটিন) তৈরি করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ৬ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৮ জুলাই পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই পরিকল্পনাটি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত সময়সূচিটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রথম দিন অর্থাৎ ৬ জুন বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে দেশের সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হবে। দীর্ঘ এই পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় তাত্ত্বিক বা লিখিত পরীক্ষা শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ জুলাই। লিখিত পরীক্ষার শেষ দিনে ফিন্যান্স (অর্থায়ন), ব্যাংকিং ও বিমা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। খসড়া সূচি অনুযায়ী, ১৩ জুলাইয়ের পর থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হবে। এবারের পরীক্ষায় মোট ৭৭টি বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ নির্ধারণ করবে।
শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি বড় পাবলিক পরীক্ষার রুটিন তৈরি করার সময় জাতীয় গুরুত্বের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে ২০২৭ সালের বার্ষিক ছুটির তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত না হওয়ায় এই সময়সূচিটি বর্তমানে 'সম্ভাব্য' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার যদি কোনো বিশেষ দিবস বা জাতীয় কর্মসূচির কারণে ছুটির তালিকায় পরিবর্তন আনে, তবে রুটিনের তারিখেও সামান্য রদবদল হতে পারে।
সাধারণত শিক্ষাবর্ষের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বছরের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার রেওয়াজ পুনপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে সরকার। গত কয়েক বছরের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে যে সময়সূচির বিচ্যুতি ঘটেছিল, তা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই এই আগাম প্রস্তুতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই খসড়া রুটিনটি পর্যালোচনা করে কোনো সংশোধনী দিলে তা সংশোধন করে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে। এরপরই সারা দেশের সকল শিক্ষা বোর্ড তাদের নিজস্ব পোর্টালে এই সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ প্রস্তুতি আর ভবিষ্যতের হাতছানিকে সামনে রেখে এই পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বোর্ডগুলো জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে একই দিনে একাধিক বিষয়ের পরীক্ষা এড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য পর্যাপ্ত বিরতি নিশ্চিত করতে রুটিনটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি আগেভাগে প্রকাশ করা হলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে প্রস্তুতির সুযোগ পায়। ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার এই সম্ভাব্য সূচি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তবে কেবল রুটিন প্রকাশই যথেষ্ট নয়, বরং এই সময়ের মধ্যে পাঠ্যক্রম যথাযথভাবে শেষ করা এবং পরীক্ষা চলাকালীন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা জরুরি। একটি নিরবচ্ছিন্ন পরীক্ষা ব্যবস্থা মেধা মূল্যায়নের পথকে আরও মসৃণ করে। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত ছুটির তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে রুটিনটি প্রকাশ করা, যাতে কোনো দোদুল্যমানতা তৈরি না হয়।