দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক অভাবনীয় রাজনৈতিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে জাতীয় সংসদে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের সংকটকালীন রাজনীতিতে নতুন এক আশার আলো সঞ্চার করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) সংসদ অধিবেশনে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। আগের দিন সংসদের বৈঠকে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের ওপর প্রাণবন্ত আলোচনার পর উভয় পক্ষ এই সমস্যা সমাধানে একযোগে কাজ করতে একমত পোষণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা আসে।
সংসদ নেতা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকট বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সারা বিশ্বেই অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলীয় নেতা জানিয়েছেন তাদের কাছে এই সংকট সমাধানের কিছু সুনির্দিষ্ট পরামর্শ রয়েছে। বিএনপি সবসময় দেশের এবং জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। সেই সদিচ্ছা থেকেই সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে মোট ১০ জন সদস্যের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী গঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নাম প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে মনোনীত অন্য চারজন সদস্য হলেন—জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে তাদের পক্ষ থেকে দ্রুত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ বা জ্যেষ্ঠ সদস্যের নাম দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই কমিটির মাধ্যমে আসা যেকোনো বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক পরামর্শ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি একে জাতীয় রাজনীতির একটি ‘নবযাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এই সংসদই হবে জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। আমরা শীঘ্রই আমাদের দলের পক্ষ থেকে দক্ষ পাঁচজন সদস্যের নাম জমা দেব।”
অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সংসদ অধিবেশন এই মাসের শেষেই সমাপ্ত হতে যাচ্ছে, তাই সময়ের গুরুত্ব বিবেচনায় বিরোধী দল দ্রুত নামগুলো দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সরকার ও বিরোধী দলের এমন সহযোগিতামূলক অবস্থান জনগণের মনে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে, জাতীয় স্বার্থে সব রাজনৈতিক দল এক হতে পারে।
Closing Analysis: বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সরকারি ও বিরোধী দলের এমন মুখোমুখি না হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃশ্য বিরল। জ্বালানি সংকটের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জাতীয় ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচনার আহ্বান এবং বিরোধী দলীয় নেতার তাতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া—আমাদের গণতন্ত্রের পরিপক্কতারই পরিচয় দেয়। এই কমিটির মাধ্যমে যদি সত্যিই কার্যকর কোনো সমাধান বেরিয়ে আসে, তবে তা সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
Meta Description: বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবে ১০ সদস্যের সরকারি-বিরোধী দলীয় যৌথ কমিটি গঠন। জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নতুন নজির।
Meta Keywords: জ্বালানি সংকট, জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. শফিকুর রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, যৌথ কমিটি, বাংলাদেশের রাজনীতি, সংসদ অধিবেশন।