জামালপুরে এক চা বিক্রেতা নারীকে অপহরণ ও পৈশাচিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই কঠোর রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী জামালপুর শহরের শাহ জামাল মাজারের সামনে ছোট একটি দোকানে চা ও পান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০২৩ সালের ১৪ মে রাতে দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে আসামিরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘাতকরা তাকে শহরের ফৌজদারী এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এই জঘন্য অপরাধের বিচার চেয়ে পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জামালপুর শহরের পাথালিয়া নওভাঙার চর এলাকার মো. কালাম (৫০), বুলবুল আহমেদ (৪৫) ও মো. রুক (৪০)। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত কালাম আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকি দুইজন—বুলবুল ও রুক পলাতক রয়েছেন। আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। জরিমানার এই সমুদয় অর্থ ভুক্তভোগী নারী পাবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক আদালতের এই রায়কে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। বর্তমানে পলাতক থাকা দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে দ্রুততম সময়ে এই ধরনের পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা। আদালতের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে অপরাধীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করবে এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।