বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণসহ যুবকদের দক্ষ ও আদর্শিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল (সহকারী সাধারণ সম্পাদক) ও কেন্দ্রীয় যুব বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের বর্তমান কার্যক্রমের সার্বিক পর্যালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের খসড়া এবং ২০২৬ সালের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এবং ড. মোবারক হোসাইন। এ ছাড়া বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ যুব বিভাগের শীর্ষ দায়িত্বশীল নেতারা। এর মধ্যে উত্তরের সভাপতি ডা. মঈন উদ্দিন ও সেক্রেটারি হাসানুল বান্না চপল এবং দক্ষিণের দায়িত্বশীল শাহিন আহমদ খান ও মঞ্জুরুল ইসলাম তাদের নিজ নিজ এলাকার যুব কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন।
আলোচনায় যুবকদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে বিভাগীয় তত্ত্বাবধান ও দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের একটি সূচি চূড়ান্ত করা হয়। বিশেষ করে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ‘মাদকবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন গঠনমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিভাগটি।
বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অঞ্চলভিত্তিক কাজের তদারকি বাড়াতে নিয়মিত সফর ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে। যুবকদের কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নয়, বরং খেলাধুলা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণই এই বিভাগের মূল লক্ষ্য।
বর্তমান সময়ে যুব সমাজের একটি বড় অংশ যখন মাদক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকির মুখে, তখন একটি রাজনৈতিক সংগঠনের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের এমন সামাজিক ও সচেতনতামূলক পরিকল্পনা প্রশংসার দাবি রাখে। কেবল ক্ষমতা বা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকে যদি তারা সত্যিকার অর্থেই তৃণমূল পর্যায়ে মাদকবিরোধী আন্দোলন এবং সুস্থ ক্রীড়া চর্চা গড়ে তুলতে পারে, তবে তা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে। আদর্শিক চর্চার পাশাপাশি তরুণদের মেধা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই প্রয়াস ভবিষ্যতে কতটুকু প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।