দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ সকল জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর থেকে জ্বালানি তেলের রেশনিং (সীমিত বরাদ্দ) ব্যবস্থা তুলে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, জনস্বার্থে নিয়োজিত গাড়িগুলোর চলাচলে আর কোনো বাধা থাকবে না।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেন। সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক বিশেষ উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এর ফলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো জীবনরক্ষাকারী ও অতিপ্রয়োজনীয় সেবাগুলোর জ্বালানি তেলের বরাদ্দ নিয়ে চলমান সংকট নিরসন হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সরকার তা নিয়ে আগেই তৎপর হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত যানবাহনগুলোর জ্বালানি তেলের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যবহারের যে বাধ্যবাধকতা বা সীমাবদ্ধতা ছিল, তা এখন থেকে আর কার্যকর থাকছে না। জননিরাপত্তা এবং মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীর মতো সংস্থাগুলো যেন তেলের অভাবে তাদের গতি হারায় না ফেলে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। গত দুই দিন আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মাঠ পর্যায়ে এসব বাহিনীর কার্যক্রমে আর কোনো স্থবিরতা আসবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত সমস্যাটি এখন পুরোপুরি কেটে যাবে।
উল্লেখ্য, দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তেলের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা ছিল। তবে অতিপ্রয়োজনীয় খাতগুলোতে যেন এর বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই বিশেষ এই ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সংসদের এই আলোচনায় উঠে আসে যে, জনস্বার্থ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
একটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নাগরিক নিরাপত্তা অনেকাংশেই নির্ভর করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জরুরি সেবাগুলোর সক্ষমতার ওপর। জ্বালানি রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মতো সংস্থাগুলো এখন আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। তবে সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নজরদারি বজায় রাখলে এই সুবিধার সুফল সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ভোগ করতে পারবে।