ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধে হত্যার আলোচিত মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার মাত্র চার মাসের মাথায় এবং সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫টি কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক এ রায় দেওয়া হলো। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন সমাজ।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের (৩৩) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিহত শিশুর বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় থাকতেন। দ্রুততম সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরাও। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১৬ জুন এই মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়, ১৭ জুন অভিযোগ গঠন এবং ২১ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর সোমবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের ওই শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তাহের নিজের পরিহিত লুঙ্গি দিয়ে তার নাক ও মুখ চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটি মারা যায়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দি করে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন তিনি।
পরদিন সকালে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তার বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশের বিশেষ অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে অভিযুক্ত আবু তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা [ওসি] জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র [চার্জশিট] দাখিল করেন।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত শিশুটির বাবা বলেন, “আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইন মন্ত্রণালয় এই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিল। আমরা চাই উচ্চ আদালতেও যেন এই মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকে।” রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং সরকারি কৌঁসুলি [পিপি] অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, “আদালতে আমরা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও নিখুঁত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পেরেছি, যার ভিত্তিতে আদালত এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন।”