ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহত প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) এই প্রকল্পে অনিয়মের সন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে নথিপত্রসহ তলব করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ডিপিডিসির ওই প্রকল্প পরিচালককে নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে আগামী ৫ মে’র মধ্যে ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত সাত ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রকল্পের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয়ের হিসাব ও নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই দুর্নীতির গভীরতা পরিমাপ করতে চায় কমিশন।
সংস্থাটির কাছে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, এই বিশাল অংকের প্রকল্পে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও ঘুষ বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে। ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নামমাত্র কাজ করে প্রকল্পের শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে বলেও সন্দেহ করছে দুদক। বিশেষ করে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক মোরশেদ আলম খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পৃথক একটি অনুসন্ধানও সমান্তরালভাবে চলছে।
বিদ্যুৎ খাতের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। সরকারি পর্যায়ের চুক্তিতে যেখানে স্বচ্ছতা থাকার কথা সবচেয়ে বেশি, সেখানে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লালসার কারণে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা ঝুঁকিতে পড়েছে। ডিপিডিসির এই প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি বিদ্যুৎ খাতের মেগা প্রকল্পগুলোতে যখন এমন দুর্নীতির খবর সামনে আসে, তখন তা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। জিটুজি বা সরকারি পর্যায়ের প্রকল্পে যদি এমন অনিয়ম হয়, তবে তা রাষ্ট্রের প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। দুদক যদি প্রভাবমুক্ত থেকে এই অনুসন্ধানের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তবেই জনগণের অর্থের সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।