রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশে আজ দুপুরের মধ্যে তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগের এই সম্ভাব্য ঝড়ের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যে দেশের ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ধেয়ে আসছে প্রবল ঝড়। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা এই ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ কোথাও কোথাও জনজীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই প্রবল বাতাসের সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত (নদীবন্দরগুলোর জন্য অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী সতর্কবার্তা) দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, এই ১০টি অঞ্চল ছাড়াও দেশের অন্যান্য প্রান্তের ওপর দিয়েও দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দেশের বাকি এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সেসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মূলত আকস্মিক ঝড়ের হাত থেকে নৌযান ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সাধারণত এপ্রিল মাসে বঙ্গোপসাগরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপের পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়। ভোরে জারি করা এই সতর্কবার্তা দুপুর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ছোট ছোট নৌযান ও ট্রলারগুলোকে তীরের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে এলে কোনোভাবেই মাঝনদীতে অবস্থান না করতে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়া প্রায়শই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একদিকে তীব্র দাবদাহ আর অন্যদিকে আকস্মিক বজ্রঝড় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে নৌপথে যাতায়াতকারীদের জন্য এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের সতর্ক সংকেত মেনে চলা এবং বজ্রপাতের সময় খোলা স্থান বর্জন করা আমাদের সবার নাগরিক দায়িত্ব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ রুখতে না পারলেও সচেতনতাই পারে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে।