Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্লকেড, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

Roksana
29 August 2026, 02:09 AM পড়তে ১ মিনিট
ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্লকেড, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে চরম উত্তজনা বিরাজ করছে। রোববার রাতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের প্রতিবাদে ও নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা।

 রোববার রাতে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জেরে রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের দাবি আদায়ে সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কোনো শিক্ষক বা বহিরাগতকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যকেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, রোববারের সংঘর্ষে যারা জড়িত ছিল, বিশেষ করে ছাত্রদলের যে সকল নেতাকর্মী এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তৃতীয়ত, সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে ক্যাম্পাসে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে, তাকে তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। শিক্ষার্থীদের দাবি, বাইরে থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে ডুয়েটেরই জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে এই পদে নিয়োগ দিতে হবে। তারা মনে করছেন, বাইরের কোনো উপাচার্য নিয়োগ দিলে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিফলন ঘটবে না।

এদিকে সোমবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। দফায় দফায় মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরছেন।

অন্যদিকে রোববারের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দায়ী করা হয়েছে। আবার পাল্টা বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ছাত্রদলের লোকেরাই এই হামলা ও সহিংসতার সূচনা করেছে। এই দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি থমথমে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অভিভাবক মহল।

 একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঘিরে শিক্ষার্থীদের এমন সংক্ষুব্ধ হওয়া এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মেধা ও মনন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়োগের চেয়ে একাডেমিক পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক কি না, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে যেন শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত না হয় এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। অন্যথায়, দীর্ঘমেয়াদী সেশনজট ও বিশৃঙ্খলায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
শিক্ষা

ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্লকেড, উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

R
Roksana | 18 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার