সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে ভারি বর্ষণ এবং দেশের অভ্যন্তরে অতিবৃষ্টির কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দেশের প্রধান ছয়টি নদ-নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১০টি পয়েন্টে (নির্দিষ্ট স্থান) পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে, যার পরিমাণ ছিল ২৯৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার। চেরাপুঞ্জির পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরের এই রেকর্ড বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত প্রভাবেই নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পাউবোর তথ্যমতে, বর্তমানে সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই এবং খোয়াই—এই ছয়টি নদীর পানি ১০টি স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। চট্টগ্রামের দোহাজারী পয়েন্টে এই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। পার্বত্য এলাকার আরেকটি প্রধান নদী মাতামুহুরির পানি লামা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫৪ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি রেল-ব্রিজ ও শহরের মনু পয়েন্ট—উভয় স্থানেই বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই জেলার ধলাই নদীর পানি কমলগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এদিকে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি বল্লা পয়েন্টে ২২০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জ সদর পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন নদীর সমতলে থাকা ৯৩টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিপরীতে পানি হ্রাস পেয়েছে ৩১টি পয়েন্টে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩টি পয়েন্টের পানি।
একই সাথে দেশের আরও তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি বা তর্কসীমায় অবস্থান করছে। নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের কাউনিয়া ও গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদী; সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও সুনামগঞ্জের লরেরগড় পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্কতা সীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব নদীর পানিও যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।