ঈদের আনন্দ আর ঘোরাঘুরির রেশ কাটতে না কাটতেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঝরল দুই তাজা প্রাণ। মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়ে দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী দুই বন্ধু।
রাজধানীর উপকণ্ঠ রূপগঞ্জের তিনশ ফিট জলসিঁড়ি বিশ্বরোড চত্বর এলাকায় আজ রোববার বিকেলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন দুই বন্ধু সাব্বির হোসেন (২১) ও মো. রিফাত (২২)। তারা যখন বিশ্বরোড চত্বর পার হচ্ছিলেন, তখন একটি বেপরোয়া গতির ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার) তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাব্বির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার শেখেরকান্দা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ থেকে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার বন্ধু ও একই এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে রিফাতও বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা স্বজন মো. মনির জানান, দুই বন্ধু মিলে নিজেদের এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দ ভ্রমণ যে শেষ পর্যন্ত নিথর দেহে পরিণত হবে, তা কেউ ভাবেনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহগুলো বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে (লাশ রাখার ঘর) রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহতদের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। যে সন্তানদের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল, যারা আর কয়েকদিন পরই পরীক্ষায় বসার কথা ছিল, সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের অকাল প্রয়াণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
রাজধানী ও আশপাশের প্রশস্ত রাস্তাগুলোতে গতির প্রতিযোগিতা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মোটরসাইকেলে দ্রুত গতিতে ভ্রমণের প্রবণতা এবং ব্যক্তিগত গাড়িগুলোর বেপরোয়া চালনা কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। যথাযথ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সচেতনতা ছাড়া এই মৃত্যুকূপ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এই দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গতির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।