Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

তনু হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, নেপথ্য তথ্য সন্ধানে পিবিআই

BNJK
29 August 2026, 01:56 AM পড়তে ১ মিনিট
তনু হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, নেপথ্য তথ্য সন্ধানে পিবিআই

 দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক নতুন মোড় এসেছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মামলার অমীমাংসিত জট খোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার রহস্য উন্মোচনে কাজ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের ডিএনএ (মানুষের বংশগতির ধারক ও বাহক যা অপরাধী শনাক্তে ব্যবহৃত হয়) নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজত) মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশের পর কড়া নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তাকে ঢাকার একটি গবেষণাগারে নিয়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, ডিএনএ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সাবধানে সম্পন্ন করা হয়েছে। রিমান্ড শেষে আগামী শনি বা রবিবার হাফিজুর রহমানকে পুনরায় কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ। এই মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডির তদন্ত দল তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনায় তিন ব্যক্তির শুক্রাণুর উপস্থিতি পেয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই ডিএনএ-র সাথে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা মিলিয়ে দেখা হয়নি। গত ৬ই এপ্রিল পিবিআই মামলার তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি—সাবেক সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানায়। আদালতের অনুমতি মেলার পরই অভিযানে নামে পিবিআই।

২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গলে তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। মেয়ের অকাল মৃত্যুতে তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। শুরু থেকে থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি মামলাটি তদন্ত করলেও গত ১০ বছরেও কোনো কূলকিনারা হয়নি। বর্তমানে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন।

মেয়ের বিচার পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, "পুরো দেশবাসী আজ ১০ বছর ধরে অপেক্ষা করছে। আমি শুরু থেকেই জড়িতদের নাম বলে আসছি। কিন্তু বিচার প্রভাবিত করতে দুই দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও মৃত্যুর কারণ অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল।"

 তনু হত্যার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এই মামলাটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় এক আক্ষেপের নাম হয়ে আছে। এতকাল পর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। তবে বিজ্ঞানসম্মত এই পরীক্ষার ফলাফল যেন কোনো প্রকার প্রভাবের বাইরে থেকে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা যেন সত্যকে ধামাচাপা দিতে না পারে, সেই প্রত্যাশাই দেশের আপামর জনতার।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

তনু হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, নেপথ্য তথ্য সন্ধানে পিবিআই

B
BNJK | 23 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার