নাটোর শহরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার দিনভর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে বেড়ে ওঠা গাছের ডালপালা অপসারণের জন্য এই সাময়িক ভোগান্তি পোহাতে হবে গ্রাহকদের।
রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার বাসিন্দাদের জন্য বিদ্যুৎ নিয়ে জরুরি বার্তা দিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বর্ষা মৌসুমের আগে এবং সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর ঝুঁকে থাকা গাছের ডালপালা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত সঞ্চালন লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাট এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নাটোর দফতরের আওতাধীন 'বাইপাস ফিডার' (বিদ্যুৎ বিতরণের একটি নির্দিষ্ট পথ বা এলাকা) এলাকার গ্রাহকরা এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতার আওতায় থাকবেন।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংস্কার কাজ টানা আট ঘণ্টা চলার কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজ শেষ হওয়া মাত্রই পুনরায় সংযোগ সচল করা হবে। তবে কাজের জটিলতা বা প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে সময়ের সামান্য তারতম্য হতে পারে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এই এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বিশেষ করে গৃহস্থালি কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
নেসকো কর্তৃপক্ষ এই সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সংস্কার কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে। তারা জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতেই এমন পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য।
বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছের ডালপালা বড় হয়ে যাওয়া আমাদের দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টির মৌসুমে এই ডালপালার কারণে লাইনে শর্ট সার্কিট হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আট ঘণ্টার দীর্ঘ বিরতি সাধারণ জনজীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, সেটিও ভাবার বিষয়। রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলো যদি আরও দ্রুততম সময়ে বা পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক করা যেত, তবে গ্রাহক ভোগান্তি হয়তো অনেকটা লাঘব করা সম্ভব হতো। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে দ্রুততম সময়ে সেবা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।