নরসিংদীর রায়পুরায় বিলের পানিতে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে চার মাদরাসা শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বরকান্দা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা সবাই স্থানীয় একটি মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলো—বরকান্দা গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩), একই গ্রামের রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯) এবং তার বোন জান্নাত (৮)। নিহত অপর শিক্ষার্থীর নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তারা প্রত্যেকেই স্থানীয় বড়কান্দা এলাকার ‘গাউসিয়া নূরে মদিনা মহিলা মাদরাসা’র শিক্ষার্থী ছিল বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার সকালেও মাদরাসায় স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দুপুরের দিকে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি (টিফিনের ছুটি) দেওয়া হলে ছয়জন শিক্ষার্থী মাদরাসার পাশেই অবস্থিত একটি বিলে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে এক শিশু অসাবধানতাবশত গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাকে ডুবে যেতে দেখে উদ্ধার করতে একে একে বাকি পাঁচজনও পানিতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সাঁতার না জানা থাকায় তাদের মধ্যে আরও তিন শিশু বিলের
পানিতে তলিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের ডুবে যাওয়ার চিৎকার ও খবর পেয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা বিলের পানিতে নেমে তল্লাশি চালিয়ে তিন শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকৃতদের দ্রুত কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ থাকা চতুর্থ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে নদী-নালা ও বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, অসচেতনতা এবং সাঁতার না জানার কারণেই গ্রামীণ এলাকায় কোমলমতি শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের পাশাপাশি এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে যায় এবং সেখানে তিনজনের মরদেহ দেখতে পায়। পরে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে এবং পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। এক পরিবারের দুই বোনসহ চার শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে নিহতের স্বজনদের কান্নায় বরকান্দা গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।