নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় প্রার্থিতা বাতিলের মুখে পড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছেন উচ্চ আদালত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার জন্য আজ নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার উচ্চ আদালতের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়েছে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্রটি গ্রহণ করে তা আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। একই সাথে, সময়ক্ষেপণের অজুহাতে মনোনয়নপত্রটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল ছিল সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই দিন নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টির এই যুগ্ম আহ্বায়ক তাঁর আবেদনপত্রটি জমা দেন বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে। মাত্র ১৯ মিনিট দেরি হওয়ার কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়। কমিশনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে নুসরাত তাবাসসুম হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন (আইনি প্রতিকার চাওয়ার আবেদন) দাখিল করেন।
আদালতে আজ নুসরাত তাবাসসুমের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ হোসেন লিপু এবং আইনজীবী মনিরুজ্জামান। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর অন্যতম আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা। শুনানিতে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান যে, সামান্য কয়েক মিনিটের বিলম্বের কারণে একজন যোগ্য প্রার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা সমীচীন নয়।
উল্লেখ্য যে, একই দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতাও বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও তাঁর প্রার্থিতা টেকেনি। তবে নুসরাত তাবাসসুমের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের এই নির্দেশনা তাঁকে নির্বাচনী লড়াইয়ে ফেরার নতুন সুযোগ করে দিল।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল (নির্বাচনী সময়সূচি) অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের এই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে নির্বাচন কমিশনকে এখন নতুন করে নুসরাত তাবাসসুমের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করতে হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সময়ের কঠোর নিয়ম থাকা জরুরি, তবে ১৯ মিনিটের মতো সামান্য বিলম্বের কারণে একজন প্রার্থীর অংশগ্রহণ আটকে দেওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। উচ্চ আদালতের এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনী ব্যবস্থায় মানবিক ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নুসরাত তাবাসসুমের মতো তরুণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্বাচনী জটিলতা নিরসনে নতুন কোনো পথ দেখান কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।