দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে অধিক মুনাফার আশায় অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করার অভিযোগে নোয়াখালীতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সদর উপজেলার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৪০০ লিটার ডিজেল ও একটি জ্বালানি পরিবহনের গাড়িসহ চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) শুক্রবার রাতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে উপজেলার চর মটুয়া ইউনিয়নের উদয় সাধুর হাট দক্ষিণ বাজারের ‘আব্দুল মালেক অয়েল স্টোর’ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই মজুত গড়ে তোলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. রাশেদ (৩৮), ভাউচার গাড়ির (জ্বালানি তেল পরিবহনের বিশেষ যান) চালক মো. নাছির উদ্দিন (৪৭), মো. শিহাব উদ্দিন (২২) ও মো. মাকসুদ (৩২)। অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে ১৪০০ লিটার ডিজেল ভর্তি ড্রাম এবং তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি লাল রঙের বড় গাড়ি জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার খলিফার হাট এলাকায় অবস্থানকালে এই অবৈধ মজুতের খবর পায়। এরপর গভীর রাতে ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উপ-পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে দলটি নির্দিষ্ট দোকানটিতে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা দলটি।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল কেনাবেচা ও মজুতের সাথে জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমান সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে যারা এমন অনৈতিক মুনাফায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন এক লিটার তেলের জন্য সাধারণ মানুষকে দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, তখন এমন অবৈধ মজুত কেবল অপরাধ নয়, বরং চরম অমানবিকতা। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে কেবল শহর নয়, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরি। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে সাহস পাবে না।