বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান নলেজ করিডোর’ কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান শিক্ষা মেলা’য় এই সুখবর জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবির শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং পাকিস্তানের ২২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মেলা উপলক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (দুই পক্ষের চুক্তিনামা) এবং অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্মতিপত্র স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জ্ঞান আদান-প্রদান এবং গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত হবে।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, শিক্ষামূলক এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি কেবল উচ্চশিক্ষা নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও আরও মজবুত করবে। এটি উভয় দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য জ্ঞান বিনিময়ের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে উচ্চশিক্ষা ও মানসম্মত গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এই ধরনের শিক্ষামূলক কার্যক্রম বিশ্বমঞ্চে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে, যা তাদের কর্মজীবনে ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারবেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এই করিডোরটি একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেলায় অংশগ্রহণকারী পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাদের উচ্চশিক্ষার সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
ক্লোজিং অ্যানালাইসিস: প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক বিনিময় একটি ইতিবাচক কূটনীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। ‘নলেজ করিডোর’ বা জ্ঞান বিনিময়ের এই পথ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। তবে শুধুমাত্র সুযোগ তৈরি করলেই হবে না, এই উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথ নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বের দাবি রাখে। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সমন্বয় গড়ে তোলার এই ধারা বজায় থাকলে তা দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী অবদান রাখবে।