প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো এ বছরের পবিত্র হজ ফ্লাইট কার্যক্রম। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শুরু হলো মক্কার পথে পবিত্র এই যাত্রা। ফ্লাইট উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশকোনা হজ ক্যাম্পে গিয়ে হজযাত্রীদের সার্বিক প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেন এবং হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করেন। এরপর তিনি বিমানের ভেতরে গিয়ে সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের নিরাপদ সফরের জন্য দোয়া করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজের এবং দেশবাসীর কল্যাণের জন্য হজযাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।
হজযাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়েছে। উপহারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ বোতল পানি, পিঠব্যাগ (ব্যাকপ্যাক), সুগন্ধিমুক্ত সাবান (ইহরাম সাবান), পানির পাত্র, পেট্রোলিয়াম জেলি, মেসওয়াক এবং উন্নত মানের আজওয়া খেজুর। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্পে একটি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রের (মেডিকেল ক্যাম্প) উদ্বোধন করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন ধর্মপ্রাণ মানুষ হজ পালন করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। মোট হজযাত্রীর অর্ধেক পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাকিরা যাবেন সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে।
ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে ১৪টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। আগামী ২১ মে পর্যন্ত মোট ২০৭টি হজের বিশেষ ফ্লাইট (হজ-পূর্ব ফ্লাইট) পরিচালিত হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতীতের নানা অভিযোগ থাকলেও এবার সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া কমানো এবং ফ্লাইট সূচি বাড়ানোর মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে হজযাত্রীদের এই দীর্ঘ সফরে সৌদি আরবে পৌঁছে আবাসন ও যাতায়াতে যাতে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেদিকে বাংলাদেশ মিশনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন। ধর্মপ্রাণ মানুষের এই মহিমান্বিত সফর যেন সর্বোচ্চ মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সেটাই এখন কাম্য।