বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এর প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জাতীয় সংসদে বইছে উৎসবের আমেজ। এই গৌরবময় অর্জনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সংসদে কবিতা আবৃত্তি করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, যা ত্রয়োদশ সংসদে কোনো নেতার প্রশংসায় প্রথম কাব্যিক নিবেদন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক আবেগঘন পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির বিষয়টি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা ১০০ ব্যক্তিত্বের মধ্যে আমাদের সংসদ নেতার নাম থাকা মানেই পুরো জাতিকে সম্মানিত করা। প্রধানমন্ত্রীর এই অসামান্য অর্জনে পুরো সংসদ তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ জ্ঞাপন করছে। চিফ হুইপের বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তুমুল হর্ষধ্বনি ও আনন্দ প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে চিফ হুইপ প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর একটি দীর্ঘ কবিতা পাঠ করেন। যদিও কবিতাটি কার লেখা তা তিনি প্রকাশ করেননি, তবে পঙ্ক্তিমালাগুলোতে উঠে এসেছে এক পরিবর্তনকামী নেতার প্রতিচ্ছবি। কবিতার ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে কীভাবে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে ফিরে তিনি মানুষের ম্লান হয়ে যাওয়া চোখে স্বপ্নের অঞ্জন বুলিয়ে দিয়েছেন। নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও হৃদয়ের কোমলতার এক অনুপম মিশেল হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে চিত্রায়িত করা হয়েছে সেই কাব্যিক পঙ্ক্তিতে।
চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছেন। তিনি কেবল প্রতিশ্রুতি দেননি, বরং মানুষের আঙুলের কালি শুকানোর আগেই কাজ বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর এই কর্মস্পৃহা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আজ বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। বিদেশেও এখন বাংলাদেশের পতাকার রঙ ও এই মাটির নাম সগৌরবে উচ্চারিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী দিনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে কবি আল মাহমুদের কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কাব্যিক প্রশংসা এই প্রথম। অতীতেও বিভিন্ন সরকারের আমলে সংসদ সদস্যদের গান বা কবিতার মাধ্যমে নেতার প্রতি ভক্তি প্রকাশের উদাহরণ থাকলেও, বর্তমান সংসদে এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করল। চিফ হুইপের পাঠ করা কবিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সেই দৃঢ় উচ্চারণ— ‘আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে’।
সংসদীয় রীতিতে কাব্য বা সাহিত্যের প্রয়োগ নতুন কিছু নয়। তবে যখন কোনো নেতার বৈশ্বিক স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন হয়, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক ভিন্ন রূপ তুলে ধরে। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা যেমন দেশের জন্য গর্বের, তেমনি সংসদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। এই ইতিবাচক ধারা দেশের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়।