ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে বিদ্যমান ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো দ্রুততম সময়ে সংশোধন করে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার এই প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
দেশের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত 'ফ্যামিলি কার্ড' (পারিবারিক পরিচয়পত্র) কর্মসূচিকে বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, যেহেতু এটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ছোটখাটো কারিগরি বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে অর্থমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে এই ভুলের পরিমাণ মোট কার্যক্রমের এক শতাংশেরও কম।
ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আওতায় দেশজুড়ে ৩৭ হাজারেরও বেশি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত কার্ডের তালিকায় প্রকৃত হকদার কেউ বাদ পড়েছেন কি না কিংবা বিত্তবান কেউ ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যেখানেই সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে তা সংশোধন করা হচ্ছে যাতে করে ভবিষ্যতে এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে পরিচালিত হতে পারে।
এই কর্মসূচিকে কেবল একটি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম হিসেবে দেখতে নারাজ অর্থমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, এটি একটি মানবিক উদ্যোগ যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আর্থিক সংস্থান নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচীর জন্য বাজেটে অর্থের কোনো সংকট হবে না। আগামী অর্থ বছরের বাজেটে এই খাতের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হবে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ কোনোভাবেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। সরকারের এই সংশোধনী উদ্যোগ যদি মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবেই সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন ঘটবে। জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পের সফলতার ওপর দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অনেকাংশ নির্ভর করছে।