Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ফরিদপুরে থামছে না হামের প্রকোপ: আরও দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬

Roksana
29 August 2026, 02:06 AM পড়তে ১ মিনিট
ফরিদপুরে থামছে না হামের প্রকোপ: আরও দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬

ফরিদপুর ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে হামের প্রকোপ যেন এক নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে। জ্বর আর শরীরে লালচে দানা নিয়ে দলে দলে হাসপাতালে ছুটছেন উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরের প্রধান সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই কোলজুড়ানো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছাল ১৬-তে।


আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগে এসেও ফরিদপুর অঞ্চলে শিশুদের মাঝে হামের বিস্তার চরম আকার ধারণ করেছে। ফরিদপুরের প্রধান চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালে (যেখানে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসার আশায় ছুটে আসেন) প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশু এবং তাদের আতঙ্কিত অভিভাবকদের ভিড়। সন্তানকে বাঁচাতে দূরদূরান্ত থেকে কোলেপিঠে করে তাদের নিয়ে আসছেন বাবা-মায়েরা। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সবার শেষরক্ষা হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত—এই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শিশু চিকিৎসা বিভাগে ভর্তি থাকা আরও দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে এই হাসপাতালে কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬ জনে। মৃত শিশুদের স্বজনদের কান্নায় ও আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণের পরিবেশ অত্যন্ত ভারী হয়ে উঠেছে।

নতুন করে যে দুটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে, তাদের বয়স এক বছরেরও কম, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বভাবতই অনেক দুর্বল থাকে। এদের মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেজাউল হোসেনের নয় মাস বয়সী ছেলে আয়ান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার হারুকান্দি এলাকার মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের তিন মাস বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহ রয়েছে। ফুটফুটে এই দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবার দুটিতে এখন শোকের মাতম চলছে।

জেলার প্রধান চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই জোড়া মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলার সার্বিক হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ৩০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে ৩৩ জন শিশু নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোর বর্তমান প্রস্তুতি সম্পর্কে এই শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, হামের প্রকোপ ঠেকাতে জেলার প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক জোরদার করা হয়েছে। তিনি উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অযথা আতঙ্কিত হয়ে ভেঙে পড়লে চলবে না। শিশুর শরীরে হামের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে বাড়িতে টোটকা চিকিৎসা করে সময় নষ্ট না করে দ্রুত তাকে কাছের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় হিসেবে প্রতিটি শিশুকে সময়মতো টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।"

চিকিৎসকরা বলছেন, পরিবারের অসচেতনতা এবং রোগ জটিল হওয়ার পর দেরিতে হাসপাতালে আসাই মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ বিষয়ে ফরিদপুরের পরিচিত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ সায়াদ পরিস্থিতিটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের শরীরে প্রাথমিকভাবে তীব্র জ্বর আসে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো শরীরে লালচে দানা বের হতে শুরু করে। এর সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং চরম শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়।

তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, "গ্রামাঞ্চলের অনেক অভিভাবক প্রথমে স্থানীয়ভাবে পল্লী চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা করান। যখন শিশুর শ্বাসকষ্ট চরম পর্যায়ে পৌঁছায় এবং শারীরিক অবস্থার মারাত্নক অবনতি ঘটে, ঠিক তখন শেষ মুহূর্তে তারা বড় হাসপাতালে ছুটে আসেন। এই দেরির কারণেই রোগের জটিলতা বহুগুণ বাড়ে এবং অনেক সময় চেষ্টা করেও শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয় না।"

এদিকে, হামের এই ভয়াবহ বিস্তার ঠেকাতে নড়েচড়ে বসেছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে বাদ পড়া শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি উঠান বৈঠক এবং শব্দযন্ত্রের মাধ্যমে (মাইকিং করে) সাধারণ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে আসার বিষয়ে সচেতন করার কাজও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এই সময়ে এসে কেবল অসচেতনতা, কুসংস্কার ও টিকাদানে অবহেলার কারণে ১৬টি শিশুর মৃত্যু আমাদের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ও লজ্জাজনক সতর্কবার্তা। হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। সরকার দেশব্যাপী বিনামূল্যে এই রোগের টিকা দিচ্ছে। তারপরও কেন এত শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে বা প্রাণ হারাচ্ছে, তা নিয়ে স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারণার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানের স্বাস্থ্যের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রথম লক্ষণ দেখাতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তবেই হয়তো ঠেকানো যাবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অকাল মৃত্যু

এলাকা: ঢাকা ফরিদপুর
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

ফরিদপুরে থামছে না হামের প্রকোপ: আরও দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬

R
Roksana | 29 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার