ঝিনাইদহের শৈলকুপায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে একটি এলাকা। মাত্র এক কাপ চা বাকিতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে পৌর এলাকার এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার পৌরসভা এলাকার খালধারপাড়ায় আজ এক নজিরবিহীন ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে যখন ওই গ্রামের বাসিন্দা রিপন হোসেন একই এলাকার শাহজাহানের চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। রিপনের কাছে আগের কিছু টাকা পাওনা ছিল দোকানি শাহজাহানের। সেই পুরনো বকেয়া পরিশোধ না করায় শাহজাহান নতুন করে তাকে বাকিতে চা পরিবেশন করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
এই সাধারণ 'না' বলা থেকেই বাকবিতণ্ডার শুরু। মুহূর্তের মধ্যে তর্কের সুর চড়তে থাকে এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রিপন ও শাহজাহানের সমর্থকরা নিজ নিজ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (ঢাল, বল্লম ও লাঠিসোঁটা) নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও তুমুল সংঘর্ষ। গ্রাম্য দলাদলি ও তুচ্ছ এই পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শান্ত খালধারপাড়া এলাকা।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে শৈলকুপা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহবুব আলম পারভেজ জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "বাকিতে চা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে দুই ব্যক্তির বিরোধ থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সামান্য এক কাপ চা কিংবা সামান্য কিছু টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে ১০ জন মানুষের রক্তাক্ত হওয়া আমাদের সামাজিক সহনশীলতার চরম অবক্ষয়কেই ফুটিয়ে তোলে। যেখানে ছোটখাটো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা সম্ভব, সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া কেবল অমানবিকই নয়, বরং আইনের শাসনের প্রতি এক ধরনের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন। প্রতিবেশীদের মধ্যে তুচ্ছ কারণে এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত আমাদের সমাজকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। স্থানীয় মুরব্বি ও প্রশাসনের উচিত তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করা।