রাজধানীর বনানীতে এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি দ্রুতগামী বাসের ধাক্কায় সিটি করপোরেশনের দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেতু ভবনের সামনে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি আবারও ঢাকার সড়কে বেপরোয়া গতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ‘ভুইয়া পরিবহন’ নামের একটি বাস বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার পথে সেতু ভবনের সামনে আকস্মিক এক পথচারী রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চালক সজোরে গতিরোধক (ব্রেক) চাপলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়।
দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময় সড়ক বিভাজকে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় তারা গুরুতরভাবে পিষ্ট হন। নিহতরা হলেন— মিরপুর এলাকার বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন (৭৪) এবং গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মহিষবন্দী গ্রামের সাগর মিয়া (৪৫)।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে বা জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় বাসটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল। হঠাৎ গতিরোধ করার কারণে চালক বাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। দুই শ্রমিক নিহত হওয়া ছাড়াও এ ঘটনায় আরও দুই-তিনজন পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই চালক ও তার সহকারী (হেলপার) বাস ফেলে পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের হিমঘরে (মর্গ) রাখা হয়েছে। পলাতক চালক ও সহকারীকে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনার পর আমরা চালকের অসাবধানতা বা পথচারীর অসতর্কতাকে দায়ী করি। কিন্তু বনানীর এই ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ব্যস্ততম সড়কে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি কতটা প্রকট। একজন পথচারীর জীবন বাঁচাতে গিয়ে আরও দুটি শ্রমজীবী মানুষের প্রাণ চলে গেল— এই দায় কি কেবল চালকের? রাজধানীর সড়কগুলোয় কি কখনোই নিরাপদ গতিসীমা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না? আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা উভয়ই কি আজ প্রশ্নের সম্মুখীন নয়?