Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মালবাহী গাড়ির ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেল যাত্রীবাহী যান: মা-ছেলে ও চালকসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

Roksana
29 August 2026, 01:54 AM পড়তে ১ মিনিট
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মালবাহী গাড়ির ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেল যাত্রীবাহী যান: মা-ছেলে ও চালকসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সপ্তাহের ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আনন্দে গন্তব্যে রওনা হয়েছিলেন পরিবারের কর্তা। কিন্তু পথে যে এমন এক ভয়ংকর মৃত্যুদূত অপেক্ষা করছে, তা কে জানত! একটি বেপরোয়া গতির মালবাহী গাড়ির ধাক্কায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেল সাজানো একটি পরিবার, অকালে ঝরে গেল মা-ছেলে ও চালকসহ তিনটি তাজা প্রাণ।


শুক্রবার, ৫ জুন। সকালের আলো ফুটতেই চারদিকে একটা স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজ করছিল। সময় তখন আনুমানিক সকাল নয়টা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিয়াল্লিশহর এলাকায় মহাসড়কে অন্যান্য দিনের মতোই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ঠিক সেই সময়েই ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা, যা পুরো এলাকার মানুষকে শোক ও আতঙ্কে স্তব্ধ করে দেয়। মাছ বহনকারী একটি বেপরোয়া ছোট মালবাহী গাড়ির সজোরে ধাক্কায় গ্যাসে চালিত একটি তিন চাকার যাত্রীবাহী যান একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায়।

নিহতরা হলেন— যাত্রীবাহী ওই যানের চালক মো. মাহবুব (৪৫), যানের যাত্রী এক নারী জোসনা বেগম (৪০) এবং তার কোলের শিশু সন্তান আশরাফুল (৫)। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনায় চোখের সামনে প্রিয় স্ত্রী ও আদরের সন্তানকে চিরতরে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন জোসনার স্বামী কাউসার (৫০)। তিনি এবং তার চার বছর বয়সী ছোট্ট মেয়ে আদিবাও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এই হতভাগ্য পরিবারের আদি নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মহাসড়ক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কাউসার তার স্ত্রী এবং দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে কসবা থেকে গ্যাসে চালিত একটি তিন চাকার যান ভাড়া করে সরাইল-বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলেন। ছুটির দিন হওয়ায় রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা কিছুটা কম ছিল। তাদের বহনকারী যানটি মহাসড়কের নিজস্ব নির্দিষ্ট পথ ধরেই ধীরগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে বিয়াল্লিশহর এলাকায় পৌঁছামাত্রই পেছন থেকে যমদূতের মতো ধেয়ে আসে একটি মাছভর্তি মালবাহী গাড়ি। চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় সামনে থাকা যাত্রীবাহী যানটিকে।

ধাক্কার তীব্রতা এতই ভয়াবহ ছিল যে, যাত্রীবাহী যানটি ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে এর কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন নিজেদের কাজ ফেলে দ্রুত ছুটে আসেন। তারা এসে দেখেন, রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্ত আর আহতদের বাঁচার আকুতি। স্থানীয়রা একটুও সময় নষ্ট না করে দ্রুত আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চালক মাহবুব, যাত্রী জোসনা বেগম এবং শিশু আশরাফুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একসাথে তিনজনের মৃত্যুর খবরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, গুরুতর আহত পিতা কাউসার এবং তার শিশুকন্যা আদিবার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। চোখের সামনে আপনজন হারানোর শোকে এবং শরীরের প্রচণ্ড যন্ত্রণায় আহত পিতার বোবা কান্না উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে খাঁটিহাতা মহাসড়ক থানার একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এ বিষয়ে খাঁটিহাতা মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক গাড়ির চালক ও তার সহযোগী গাড়িটি ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ফলে তাদের কাউকেই তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ বর্তমানে পলাতক চালককে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে একটি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মাছ বা কাঁচামাল বহনকারী গাড়িগুলোর বেপরোয়া গতি মহাসড়কে সব সময়ই সাধারণ যাত্রীদের আতঙ্কের অন্যতম কারণ। নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পণ্য পৌঁছানোর তাগিদে এই চালকরা অনেক ক্ষেত্রেই গতিসীমা এবং যান চলাচলের নিয়মকানুন তোয়াক্কা করেন না। আজকের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তারই এক নিষ্ঠুর ও বাস্তব উদাহরণ। একটি অসতর্ক মুহূর্ত এবং একজন চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে চিরতরে শেষ হয়ে গেল একটি পরিবারের হাসি-আনন্দ।


সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে এক অঘোষিত মহামারিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম খুললেই এমন মৃত্যুর দীর্ঘ মিছিল আমাদের দেখতে হয়। পণ্যবাহী দ্রুতগামী যানগুলো মহাসড়কে যেভাবে বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলে, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। একজন চালকের সামান্য গাফিলতি ও উদাসীনতা যে কতগুলো মানুষের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিতে পারে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মহাসড়কে ছোট আকারের যান চলাচলে সতর্কতা বৃদ্ধি এবং ভারী যানের চালকদের মানসিকতা পরিবর্তন ছাড়া এই মৃত্যুফাঁদ থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। দেশের সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখনই কঠোর নজরদারি ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মালবাহী গাড়ির ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেল যাত্রীবাহী যান: মা-ছেলে ও চালকসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্য...

R
Roksana | 05 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার