বর্ষবরণের উৎসবের আমেজের মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে বৈশাখী ঝড়। আজ মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে দেশের তিনটি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পহেলা বৈশাখের প্রভাতী আয়োজন যখন শেষলগ্নে, ঠিক তখনই আকাশের মেজাজ বিগড়ে যাওয়ার খবর জানাল আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঝড়ের তীব্রতার সঙ্গে এসব এলাকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই তিন অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত (নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রাথমিক স্তরের সাবধানতা) দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে দুপুরের পরবর্তী সময়ের জন্য দেওয়া নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বড় একটি অংশ জুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানোসহ বজ্রবৃষ্টির জোরালো পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, পশ্চিমা লঘুচাপের (বায়ুমণ্ডলের এক ধরণের নিম্নচাপ যা ঝড় তৈরি করে) প্রভাবে এই প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড়ের প্রকোপ বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। চৈত্র সংক্রান্তি এবং বৈশাখের শুরুতেই এমন আবহাওয়া গ্রামীণ জনপদে কিছুটা স্বস্তি দিলেও উৎসবের উন্মুক্ত আয়োজনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নদীবন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছে প্রশাসন।
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বৈশাখ যেমন আনন্দ নিয়ে আসে, তেমনি তার সঙ্গে আসে রুদ্র রূপ—কালবৈশাখী। একদিকে খরতাপ থেকে মুক্তি দিতে এই বৃষ্টি আশীর্বাদ, অন্যদিকে খোলা জায়গায় মেলা বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য এটি সতর্কবার্তা। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনাকে মেনে নিয়েই আমাদের নিরাপদ উৎসবে অভ্যস্ত হতে হবে। বৈশাখের এই ঝোড়ো হাওয়া যেন আমাদের জনজীবনে কোনো বড় বিপর্যয় না আনে, সেই কামনাই রইল।