Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ভাণ্ডারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বড় বিভ্রাট: বর্তমান পরীক্ষার্থীকে দেয়া হলো আগামী বছরের প্রশ্নপত্র

BNJK
29 August 2026, 02:04 AM পড়তে ১ মিনিট
ভাণ্ডারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বড় বিভ্রাট: বর্তমান পরীক্ষার্থীকে দেয়া হলো আগামী বছরের প্রশ্নপত্র

 পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এক ছাত্রীকে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের (আগামী বছরের) প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

 পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এই ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর নাম লামিয়া আক্তার। তিনি কেশব লাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। লামিয়ার অভিযোগ, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় তাকে আগামী বছরের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যার ফলে তার চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে এখন গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে লামিয়া জানান, পরীক্ষার শুরুতে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) বিতরণের সময় হঠাৎ প্রশ্নপত্রের সংকট দেখা দেয়। হল পরিদর্শক নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ মিনিট পর তাকে একটি প্রশ্নপত্র হাতে দেন। সময়ের চাপে থাকা লামিয়া দ্রুততার সাথে সেই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন। তবে বিপত্তি বাঁধে পরীক্ষা কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর। সহপাঠীদের সাথে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করার সময় দেখা যায়, লামিয়ার উত্তরের সাথে অন্যদের উত্তরের কোনো মিল নেই। পরবর্তীতে প্রশ্নপত্রটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, তাতে মুদ্রণ সাল হিসেবে ২০২৫ উল্লেখ করা আছে। অর্থাৎ, যে প্রশ্নপত্রে লামিয়া পরীক্ষা দিয়েছেন, সেটি মূলত আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

এই ভয়াবহ ভুলের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব আমিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় অস্বীকার করেন। তার দাবি, কেন্দ্রে প্রশ্ন বিতরণে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই এবং সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রশ্নপত্রের সংকটের কথা এবং কেন এক পরীক্ষার্থী ভিন্ন সালের প্রশ্ন পেলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনও দাপ্তরিকভাবে তার নজরে আসেনি। তবে অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং তিনি দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা যাচাই করবেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাসিবুল হাসান এ প্রসঙ্গে বলেন, "সংবাদকর্মীদের মাধ্যমেই আমি ঘটনাটি প্রথম জানতে পেরেছি। একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এভাবে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে না। আমরা অতি দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব এবং কীভাবে আগামী বছরের প্রশ্নপত্র এখন বিলি হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে।"

একটি জাতীয় পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র বিতরণে এমন চরম অবহেলা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতারই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়ার শামিল। যেখানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ করার কথা, সেখানে এক বছর পরের প্রশ্ন কীভাবে পরীক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাল, তা এক বিরাট রহস্য। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কি এই দায় এড়িয়ে যেতে পারে? একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভঙ্গের এই দায় আসলে কার?

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

ভাণ্ডারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় বড় বিভ্রাট: বর্তমান পরীক্ষার্থীকে দেয়া হলো আগামী বছরের প্রশ্নপত্র

B
BNJK | 23 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার