দুই বছরের সাজানো সংসার ও দীর্ঘদিনের প্রণয়—সবই যেন মুহূর্তেই ফিকে হয়ে গেল। শোবিজ অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত জুটি অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে। বৈবাহিক সম্পর্কের এই করুণ সমাপ্তি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে গুঞ্জন থাকলেও অবশেষে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং অভিনেত্রী।
মূল সংবাদ: দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ এবং লেখক ও নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার বিচ্ছেদের খবরটি এখন বিনোদন জগতের টপ অফ দ্য টাউন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রানার অন্য এক তরুণীর সাথে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই ভাঙনের সূত্রপাত। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই এই দম্পতি আলাদা থাকছিলেন। দীর্ঘদিনের মান-অভিমান এবং পারিবারিক কলহ শেষ পর্যন্ত আইনি বিচ্ছেদে রূপ নিয়েছে।
বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে মৌসুমী হামিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, "আপনারা যা শুনেছেন, তা দুর্ভাগ্যবশত সত্যি। তবে এই মুহূর্তে আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার মতো শক্তি বা ইচ্ছা আমার নেই।" এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি দুই পরিবারের সম্মতিতে এবং অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রানা ও মৌসুমী। বিয়ের সময় মৌসুমী জানিয়েছিলেন, রানার সাথে তাঁর পরিচয় দীর্ঘ দুই বছরের। সেই পরিচয় থেকে প্রেম এবং পরবর্তীতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সুখের সেই নীড় দুই বছর পার হওয়ার আগেই তছনছ হয়ে গেল।
শোবিজ পাড়ায় গুঞ্জন রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই আবু সাইয়িদ রানার সাথে এক তরুণীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সংসারে অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সুরাহা করার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এক পর্যায়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রানা নিজেই মৌসুমীকে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি নোটিশ (ডিভোর্স লেটার) পাঠান।
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পদার্পণ করা মৌসুমী হামিদ তাঁর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। নাটক, চলচ্চিত্র এবং ওটিটি (ইন্টারনেট ভিত্তিক স্ট্রিমিং মাধ্যম) প্ল্যাটফর্মে সমানতালে কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আবু সাইয়িদ রানাও একজন মেধাবী নাট্যকার হিসেবে পরিচিত। এই দুই সৃজনশীল মানুষের বিচ্ছেদে তাঁদের ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশ্লেষণ: তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে একটি সুন্দর সম্পর্কের এমন অপ্রীতিকর সমাপ্তি সমাজের ভঙ্গুর পারিবারিক কাঠামোরই ইঙ্গিত দেয়। পরকীয়া বা আস্থার সংকট যখন দাম্পত্যের ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়, তখন বিচ্ছেদই হয়তো অনেকের কাছে একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই বিচ্ছেদ কেবল দুজন মানুষের আলাদা হওয়া নয়, বরং অনেক স্বপ্ন ও বিশ্বাসের অপমৃত্যু। আধুনিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বিশ্বস্ততা টিকিয়ে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।