মাদারীপুরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের আট মাস বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, আমিরাবাদ এলাকার মৃত বীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্ত্রী সান্তনা রানী চন্দের বাসায় ভাড়া থাকেন মিষ্টি বাড়ৈ নামে এক নারী। মিষ্টি বাড়ৈ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সাতপাড় এলাকার যতীন বাড়ৈয়ের স্ত্রী। রোববার বিকেলে নিজেদের চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে চিন্ময় দাস, তার স্ত্রী ইশা দাস এবং তাদের শিশুকন্যা ওই বাসায় দেখা করতে আসেন।
নিহত চিন্ময় দাসের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাগাছিয়া এলাকায়। বিকেলে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার পর রাতে তারা সেই বাসার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তবে মধ্যরাতে পরিস্থিতি বদলে যায়। ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের কক্ষে থাকা মিষ্টি বাড়ৈ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই বাসার পাশের কক্ষে মিষ্টি বাড়ৈ একাই ছিলেন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে এবং এই মুহূর্তে তিনিই সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। মৃতদেহগুলো উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশি পাহারা বাড়ানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
একটি পরিবারের তিন সদস্যের এভাবে অকাল মৃত্যু সমাজের নিরাপত্তার বিষয়টিকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সম্পর্কের আড়ালে কোনো দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল, নাকি কোনো আকস্মিক ঘটনার জের ধরে এই প্রাণহানি—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। অপরাধের নেপথ্যের কারণ উদঘাটন করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায়বিচার পায়।