জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনাকে ধারণ করে রাজনীতি নয়, বরং মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থিত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের বাইরে সন্তানদের অপেক্ষায় থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি শিক্ষার গুরুত্ব ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক— এই দুটি পরীক্ষা হলো একজন শিক্ষার্থীর জীবনের মূল ভিত্তি। এই পর্যায়ের সফলতার মাধ্যমেই তাদের ভবিষ্যৎ জ্ঞানার্জনের পথ সুগম হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আজকের এই তরুণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতির নামে মেধার অবমূল্যায়ন কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্র রাজনীতিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জামায়াত আমির বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো ‘মানুষ হওয়ার আঙিনা’। যেখানে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে, সেখানে কেউ অমানুষের মতো কাজ করবে বা সহিংসতায় লিপ্ত হবে— এটি জামায়াতে ইসলামী কখনো সমর্থন করে না। তিনি মনে করেন, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখাই প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে যে নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তার মূলে রয়েছে একটি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। সেই লক্ষ্য অর্জনে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য কেবল পাঠ্যবই নয়, বরং চারিত্রিক ও নৈতিক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকদের তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সবসময় পাশে থাকবেন।
মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ডাক বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। শিক্ষাঙ্গনকে সব ধরনের লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি ও সহিংসতা থেকে মুক্ত রাখতে না পারলে আগামীর নেতৃত্ব সংকটে পড়ার আশঙ্কা থাকে। জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে মেধার মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনীতি কতটা দ্রুত এই মেধাভিত্তিক রূপান্তরের পথে হাঁটতে পারে।