রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা যাত্রাবাড়ীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন আমেনা বেগম নামে এক বৃদ্ধা। শুক্রবার রাতের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি আরও একবার রাজধানীর সড়ক অব্যবস্থাপনা ও পথচারীদের নিরাপত্তাহীনতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত আমেনা বেগমের বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া এলাকার সোলোমান দেওয়ানের স্ত্রী। পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে এখন শোকের মাতম চলছে।
নিহতের স্বজন ও নাতি মো. জাবেদ জানান, রাতে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তার নানি আমেনা বেগম। এ সময় সুন্দরবন ডাক আদান-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের (কুরিয়ার সার্ভিস) একটি পণ্যবাহী বড় গাড়ি (কাভার্ডভ্যান) তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গাড়ির ধাক্কায় তিনি ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরে প্রচণ্ড আঘাত পান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং রাত ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মো. ফারুক হাসপাতালের নথিপত্র ও চিকিৎসকের বক্তব্যের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বৃদ্ধার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সামান্য অসতর্কতা আর বেপরোয়া গতির বলি হয়ে একটি পরিবার তাদের অভিভাবককে হারালো।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে বিশেষ করে রাতের বেলা পণ্যবাহী যানগুলোর বেপরোয়া গতি এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেব্রা ক্রসিং কিংবা পদচারী সেতুর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের মিতব্যয়ী ও সতর্ক চালনা নিশ্চিত করা না গেলে এমন অকাল মৃত্যু রোধ করা অসম্ভব। আমেনা বেগমের এই চলে যাওয়া আমাদের সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আবারও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।