উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও যাতায়াত ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় যমুনা সেতু। বিদ্যমান সেতুর ওপর যানবাহনের প্রবল চাপ কমাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সরকার এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।
যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের লক্ষে বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কার্যক্রম পুরোদমে চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সেতুমন্ত্রী জানান, ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া বর্তমান বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুটি চার লেনের হলেও তা তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ। দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই যানজট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখে যমুনা নদীর ওপর একটি বিকল্প ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
সেতু কর্তৃপক্ষের মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের মধ্যে এই দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই বিশাল প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত স্থান বা করিডোর নির্বাচনের কাজ চলছে। মন্ত্রী জানান, প্রধানত তিনটি সম্ভাব্য স্থান বা অ্যালাইনমেন্ট (সেতুর অবস্থান পথ) যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এগুলো হলো— বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত সংযোগ, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত করিডোর অথবা অন্য কোনো কারিগরিভাবে উপযুক্ত স্থান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই সেতুটি নির্মিত হলে কেবল উত্তরবঙ্গের সাথেই নয়, বরং সারাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতির সঞ্চার হবে। বর্তমান সেতুর ওপর চাপ কমলে যানজট যেমন কমবে, তেমনি জ্বালানি সাশ্রয় ও সময়ের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। সরকার এই প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হলো তার উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের এই উদ্যোগ নিছক একটি অবকাঠামো নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের কৃষি ও শিল্পায়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ২০৩৩ সালের মধ্যে এই সেতু চালু হলে তা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।