দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যশোরে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আকাশপথে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তিনি শার্শা উপজেলার বিখ্যাত উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খুলনা বিভাগে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। বিমানবন্দরে নামার পর তাকে রাষ্ট্রীয় ও দলীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেত্রী অধ্যাপক নার্গিস বেগম তাকে স্বাগত জানান। এ সময় যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সকাল থেকেই প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন। শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে; তোরণ, ব্যানার আর পতাকায় ছেয়ে গেছে রাজপথ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (পুলিশ ও আনসার বাহিনী) পুরো এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সড়কপথে শার্শার উলশী খালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বেলা পৌনে ১২টায় তিনি সেখানে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন ও আয়োজিত সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন। এই প্রকল্পটি অঞ্চলের কৃষি ও জলনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। উলশী প্রকল্প শেষে তার ব্যস্ত সময়সূচিতে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে তিনি যশোর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন, যা এই অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
এরপর দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট গণগ্রন্থাগার (পাবলিক লাইব্রেরি) পরিদর্শন করবেন। সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে বিকেল সাড়ে তিনটার জনসভাকে। যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন সাজ সাজ রব। স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে যশোরের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত উন্নয়নমূলক কাজগুলো দ্রুত গতি পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রধান আকর্ষণ ‘উলশী খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প। এটি কেবল একটি মাটি কাটার কাজ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা ও কৃষি বিপ্লবের এক শক্তিশালী প্রতীক। এক সময় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই খালের কাজ সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আধুনিক প্রযুক্তিতে এর পুনঃখনন দক্ষিণ-বঙ্গের জলাবদ্ধতা দূর করতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কী পরিবর্তন আনবে, তা এখন দেখার বিষয়। উন্নয়নের এই জোয়ার যেন কেবল অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটায়, এটাই সাধারণ নাগরিকের প্রত্যাশা।