চট্টগ্রামের রাউজানে ৪৩ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও নৃশংস গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবার নিজ বাড়ির কাছেই দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন নাছির উদ্দীন নামের এক যুবদল কর্মী। পরপর দুই খুনের ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে। রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নাছির উদ্দীনকে (৫৫) লক্ষ্য করে গুলি চালায় একদল অস্ত্রধারী। নিহত নাছির ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ শমসের পাড়ার প্রয়াত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে নাছিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘাতকদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এলাকায় মাটি কাটা, পাহাড় কাটা, চাঁদাবাজি কিংবা পুরনো কোনো শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার চিহ্নিত এক দুর্ধর্ষ ব্যক্তির সাথে নাছিরের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর আগেও একবার তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেবার দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না।
উল্লেখ্য, এর মাত্র ৪৩ ঘণ্টা আগে গত শুক্রবার রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউসার উর জামান বাবলু নামে আরেক বিএনপি কর্মীকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুই দিনের মাথায় পরপর দুটি খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এই দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না। নিহতের বিরুদ্ধেও থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
একটি জনপদে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অপরাধীরা যদি এভাবে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে পার পেয়ে যায়, তবে সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। রাউজানের এই অস্থিরতা দমনে প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।