টানা দাবদাহের পর রাজধানী ঢাকায় নেমেছে প্রশান্তির বৃষ্টি। মাত্র দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে তপ্ত নগরজীবনে শীতল পরশ বুলিয়ে দিলেও অফিসফেরত মানুষকে পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির এই ধারা সোমবারও অব্যাহত থাকতে পারে।
বৈশাখের তপ্ত দুপুরে হঠাৎ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় ঢাকার আকাশ। বিকেলের দিকে শুরু হয় অঝোর ধারায় বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বুকে মাত্র দেড় ঘণ্টা সময়ে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরমের পর এই বৃষ্টি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও রাজধানীর চিরচেনা জলাবদ্ধতা বা জলজট আবার প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
বৃষ্টির স্থায়িত্ব খুব বেশি না হলেও রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে যানবাহন সংকটে অফিসফেরত কর্মজীবীদের দীর্ঘ সময় বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেক স্থানে নর্দমা উপচে রাস্তায় পানি চলে আসায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা সংবাদমাধ্যমকে জানান, বৃষ্টির এই ধারা এখনই থামছে না। আগামী সোমবারসহ পরবর্তী দুই দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আশার কথা হলো, চলতি এপ্রিল মাসের বাকি দিনগুলোতে বড় ধরনের কোনো তাপপ্রবাহ (প্রচণ্ড গরমের প্রবাহ) হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। রোববার দেশের মাত্র দুটি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল, যা বৃষ্টির কারণে প্রশমিত হওয়ার পথে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, রোববার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি বেগে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানতে পারে। এই ঝড়ের সময় বজ্রপাত এবং কোনো কোনো স্থানে শিলাবৃষ্টির তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃষ্টির কারণে ঢাকার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসায় রাতের আবহাওয়ায় শীতল ভাব বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টদের বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে না থাকার এবং সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রকৃতির এই বৈচিত্র্যময় আচরণ একদিকে যেমন তৃষ্ণার্ত ধরণিকে শীতল করেছে, অন্যদিকে নগরের দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আবারও জনসম্মুখে উন্মোচিত করেছে। সামান্য বৃষ্টিতে যদি রাজধানীর রাজপথ সয়লাব হয়ে যায়, তবে সামনে বর্ষা মৌসুমে জনভোগান্তি কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে তা নিয়ে নগরবাসী উদ্বিগ্ন। বৃষ্টির আশীর্বাদ যেন জলাবদ্ধতার অভিশাপে পরিণত না হয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।