জনপ্রিয় কন্টেন্ট নির্মাতা (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃজনশীল ভিডিও তৈরিকারক) নুরুজ্জামান কাফি রাজনীতিতে নাম লেখাতে না লেখতেই একের পর এক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের পর থেকে তাকে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনে চরম প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সন্তান নুরুজ্জামান কাফি সম্প্রতি ঢাকার এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি আগামীতে নিজ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। তবে তার এই রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরুর পথটি মোটেই মসৃণ হয়নি।
সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাফি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঢাকার আদাবর এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি বাসার চিলেকোঠায় ভাড়া থাকতেন। কিন্তু এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার পর এখন তাকে সেই বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাড়ির মালিকপক্ষের একাংশ তাকে নানাভাবে বিরক্ত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কাফি জানান, সম্প্রতি নিজ বাসভবনের ছাদে একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার উদ্যোগ নিলে অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা এতে বাধা সৃষ্টি করেন। তার দাবি, তিনি একটি বিকল্প রাজনৈতিক ধারায় যুক্ত হওয়ার কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
রাজনীতির প্রভাব কাফির পেশাগত জীবনেও বড় আঘাত হেনেছে। একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক বছরের জন্য পণ্যের প্রচারক (ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর) হিসেবে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়েছেন—শুধুমাত্র এই অজুহাতে প্রতিষ্ঠানটি আকস্মিকভাবে তার চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। কাফি আক্ষেপ করে বলেন, রাজনীতিতে আসার মাসুল হিসেবে খুব অল্প সময়ে তাকে বড় দুটি ত্যাগ স্বীকার করতে হলো। প্রতিষ্ঠানটি তাকে সরাসরি ফোনে জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর তাদের পক্ষে কাফিকে আর প্রচারক হিসেবে রাখা সম্ভব নয়।
কাফি ইঙ্গিত দেন যে, সরকারি দলের সঙ্গে থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হতো না। ভিন্নমতের রাজনীতি বেছে নেওয়ার কারণেই তাকে এই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে এত বাধা ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি পিছপা হতে নারাজ। এই পরিস্থিতিকে জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি।
দৃঢ় মনোবল ব্যক্ত করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, "যাই ঘটুক না কেন, আমি ভেঙে পড়ছি না। স্রষ্টা হয়তো আমাকে পরীক্ষা করছেন। আমার বিশ্বাস, এই ত্যাগের বিনিময়ে সামনে হয়তো ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।" উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এনসিপিতে যোগদান করেন।
একজন সৃজনশীল কর্মীর রাজনৈতিক আদর্শের কারণে তার পেশা বা ব্যক্তিজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। কাফির এই অভিজ্ঞতা প্রশ্ন তোলে—আমাদের দেশে ভিন্নমতের রাজনীতি করা কি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ? রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি নাগরিক অধিকার রক্ষা করা না গেলে নতুন প্রজন্মের মেধাবীরা রাজনীতিতে আসতে আগ্রহ হারাবে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের গভীর চিন্তা করা প্রয়োজন।