Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

রৌফাবাদে সন্ত্রাসীদের বুলেটে বিদ্ধ ছোট্ট রেশমীর জীবনাবসান: থামল সাত দিনের লড়াই

Roksana
29 August 2026, 01:54 AM পড়তে ১ মিনিট
রৌফাবাদে সন্ত্রাসীদের বুলেটে বিদ্ধ ছোট্ট রেশমীর জীবনাবসান: থামল সাত দিনের লড়াই

পানের দোকানে যাওয়ার পথে নিভে গেল এক ফুটফুটে শিশুর জীবনপ্রদীপ। চট্টগ্রামের রৌফাবাদে সন্ত্রাসীদের ছোড়া লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বিদ্ধ ১১ বছরের রেশমী আক্তার সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। অবুঝ এই শিশুটির মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।


চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতের সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও তাজা। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের লড়াইয়ে সেদিন অকালেই ঝরে গিয়েছিল রাজু নামের এক যুবকের প্রাণ। কিন্তু সেই একই ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়ার লড়াই শুরু করেছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমী আক্তার। তবে সেই লড়াই আর পূর্ণতা পেল না। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে রেশমীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার থেকেই শিশুটিকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। তার বাম চোখে বিদ্ধ হওয়া গুলির আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মাথায় এবং চোখের ভেতরে গভীর ক্ষত তৈরি হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে বাধ্য করে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার দিন রাতে রেশমী তার বাসা থেকে বের হয়ে পাশের একটি দোকানে পান কিনতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলিতে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী রাজু নামের এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি সরাসরি রেশমীর বাম চোখে গিয়ে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিশুটি। অন্যদিকে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাজুর।

রেশমীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ছোট্ট মেয়েটির চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। পড়াশোনা করে বড় হওয়ার অদম্য ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু এক মুহূর্তের নিষ্ঠুরতা তার সব স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি চিকিৎসালয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সাত দিন ধরে যমে-মানুষে টানাটানির পর আজ সকালে চিরদিনের মতো চোখ বুজল এই নিষ্পাপ শিশুটি।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে প্রশাসনের? নিহত রাজুর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং বাকি অপরাধীদের ধরতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রেশমীর মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে তার নিথর দেহ হস্তান্তর করা হবে। এক সপ্তাহ আগেও যে শিশুটি হাসি-আনন্দে পাড়া মাতিয়ে রাখত, আজ তার লাশ হয়ে বাড়ি ফেরার প্রতীক্ষায় স্বজনেরা। রৌফাবাদের প্রতিটি অলিগলিতে এখন শুধু কান্নার শব্দ আর বিচারহীনতার হাহাকার।


রেশমীর মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত শোক নয়, বরং এটি আমাদের সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এক করুণ প্রতিফলন। সন্ত্রাসীদের নিজেদের মধ্যকার আধিপত্য বিস্তার বা ব্যক্তিগত আক্রোশের বলি কেন হতে হবে একজন সাধারণ পথচারী বা নিস্পাপ শিশুকে? যখন শহরতলির অলিগলিতে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ে, তখন রেশমীদের মতো ফুলেরা অকালেই ঝরে যায়। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না গেলে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে নাগরিক নিরাপত্তা কথাটি কেবল কাগুজে শব্দেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। আমরা চাই না আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি হোক।

এলাকা: চট্টগ্রাম
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

রৌফাবাদে সন্ত্রাসীদের বুলেটে বিদ্ধ ছোট্ট রেশমীর জীবনাবসান: থামল সাত দিনের লড়াই

R
Roksana | 14 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার