লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে, যা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও উত্তজনা সৃষ্টি করেছে।
সীমান্ত এলাকায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে বুধবার ভোররাতে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন (৩০)। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) আওতাধীন ধবলগুড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) নিকটবর্তী ৮৭৪/৫-এস নম্বর সীমান্ত খুঁটির (পিলার) কাছে এই ঘটনা ঘটে। বিজিবি সদস্যদের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিট নাগাদ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের ভেতরে ‘সাতগ্রাম’ ক্যাম্প এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়।
পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মুঠোফোনে আলাপচারিতা হয়। বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভোররাতে ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার কাটার উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এসময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি ছুড়লে আলী হোসেন গুরুতর আহত হন। বিএসএফ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভারতের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আলী হোসেনের পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে এখন শোকের মাতম চলছে। ৬১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফজলে মুনিম জানিয়েছেন, একজন নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিককে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ জানতে এবং মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক (সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর জরুরি সভা) ডাকার প্রস্তুতি চলছে।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। গরু পাচার বা অনুপ্রবেশের অভিযোগ থাকলেও একজন মানুষকে বিচারহীনভাবে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন। বিএসএফের দাবি অনুযায়ী ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলেও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে অহিংস উপায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সীমান্তে এমন রক্তপাত দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সুসম্পর্কের পথে বড় অন্তরায়। এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।