চট্টগ্রামসহ দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নিষিদ্ধ বা ছদ্মবেশধারী ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। বুধবার চট্টগ্রামে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নগরের পুরাতন রেল স্টেশন ময়দান থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির।
সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে এবং পরে সেই ঘটনার দায় উল্টো ছাত্রদলের ওপরই চাপানোর অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নমত প্রকাশের মাধ্যম হওয়া উচিত যুক্তি ও আলোচনা। কারো কোনো বক্তব্য বা লেখনী পছন্দ না হলে তার বিপরীতে পাল্টা যুক্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা না করে পেশিশক্তি ব্যবহার করে হামলার পথ বেছে নেওয়া প্রমাণ করে যে, ওই পক্ষটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে বিশ্বাসী নয়।”
চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ঘটনায় ছাত্রদলের অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন উল্লেখ করে নাসির উদ্দীন আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য এবং সেখানে কোনো প্রকার সহিংসতা বা পর্দার আড়ালের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ (গোপন বা অননুমোদিত রাজনৈতিক তৎপরতা) চলতে দেওয়া হবে না।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। সমাবেশে চট্টগ্রামের স্থানীয় ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ ও সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের মতো ঘটনাগুলো যখন সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের এই হুঁশিয়ারি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং ক্যাম্পাসগুলোতে শান্তি বজায় রাখার একটি জোরালো দাবি হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি সত্যিই সহিংসতামুক্ত জ্ঞানার্জনের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে কি না।