চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি বড়সড় ‘পুশ-ইন’ (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করানো) চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১৯ জুন) গভীর রাতে ২০ জনের একটি দলকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যদের সতর্ক দৃষ্টি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই ২০ ব্যক্তি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যান্স ল্যান্ড) ভারতীয় অংশে আটকা পড়ে আছেন।
শনিবার সকালে বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমের কাছে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে বিএসএফের পাহারায় ওই ২০ জনকে চৌকা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চক্রান্ত করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল রাতের নীরবতায় বিজিবির চোখ ফাঁকি দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা আগে থেকেই সেখানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী ওই দলটিতে নারী ও অবুঝ শিশুর সংখ্যাই বেশি ছিল। বিজিবির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দলে ১১ জন নারী, চারজন শিশু এবং পাঁচজন পুরুষ রয়েছেন।
তারা যখন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করেন, ঠিক তখনই বিজিবির টহল দল তাদের গতিরোধ করে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে কড়া অবস্থান নেন এবং তাদের প্রবেশে কঠোরভাবে বাধা দেন। বিজিবির এমন অনড় ও পেশাদার অবস্থানের মুখে বাধ্য হয়ে পিছু হটে বিএসএফ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিএসএফ ওই ২০ জনকে পুনরায় ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেয়নি। ফলে নারী ও শিশুসহ পুরো দলটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে মানবেতর অবস্থায় অবস্থান করছে।
এ বিষয়ে বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "সীমান্তে আমাদের টহল দলের সদস্যরা সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকেন। তাদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণেই শুক্রবার রাতে বিএসএফের এই অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারীরা বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে রাতের বেলায় এমন পুশ-ইনের ঘটনা কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলেও বিজিবির সাহসী ও কঠোর পদক্ষেপে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে চৌকা সীমান্তসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুরো সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি তাদের জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) নীতি অব্যাহত রেখেছে।