শিশুদের জটিল ও কঠিন রোগের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শিশু সার্জারি (শল্যচিকিৎসা) দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও অসুস্থ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে শিশুদের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক শিশু সার্জারি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পেডিয়াট্রিক সার্জনস এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগ যৌথভাবে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির শুরুতেই সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য পদযাত্রা বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক চিকিৎসক মো. মাজহারুল শাহীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে পদযাত্রায় অংশ নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চিকিৎসক মো. আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পেডিয়াট্রিক সার্জনস-এর সভাপতি অধ্যাপক চিকিৎসক মো. আবু জাফর। পুরো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক চিকিৎসক মো. ছামিদুর রহমান। পদযাত্রাটি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শিশুদের জন্মগত ও অর্জিত রোগের শল্যচিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়।
আয়োজকেরা জানান, শিশুদের অনেক শারীরিক সমস্যা রয়েছে যা কেবল সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার বা শল্যচিকিৎসার মাধ্যমেই নিরাময় সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাবে অনেক সময় অভিভাবকেরা সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। এই দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মাঝে সেই সচেতনতা তৈরি করা এবং শিশুদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো।
পদযাত্রা শেষে শিশু সার্জারি বিভাগের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অসুস্থ শিশুদের মাঝে উন্নত মানের খাবার বিতরণ করা হয়। চিকিৎসকদের এই মানবিক উদ্যোগ ভর্তি থাকা শিশুদের মুখে হাসি ফোটায় এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ চিকিৎসক আশফাক নবী, যুগ্ম সম্পাদক চিকিৎসক মো. শাহিন রেজা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক চিকিৎসক কায়সার ইয়ামিন ইষাদসহ বিভিন্ন স্তরের জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক নাঈম হাসান ও চিকিৎসক ফারজানা আলী জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের শিশুদের জন্য উন্নত শল্যচিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে প্রতিনিয়ত অত্যন্ত জটিল সব অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। তবে কেবল চিকিৎসাসেবা দেওয়াই শেষ কথা নয়, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ, আর তাদের সুস্থতা নিশ্চিতে শিশু শল্যচিকিৎসা এক অপরিহার্য মাধ্যম। আন্তর্জাতিক শিশু সার্জারি দিবসের এই আয়োজন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিশুদের সার্জিক্যাল সমস্যাগুলো অবহেলার বিষয় নয়। সরকারি বড় হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও যদি এই সচেতনতা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং দক্ষ শিশু শল্যচিকিৎসক তৈরি করা সম্ভব হয়, তবেই দেশের প্রতিটি শিশুর শৈশব হবে রোগমুক্ত ও নিরাপদ।