জাতীয় সঞ্চয়পত্র কিনতে আসা গ্রাহকদের কোনোভাবেই নিরুৎসাহিত করা যাবে না বলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের সুবিধার্থে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সব তফসিলি ব্যাংককে (বাণিজ্যিক বা তালিকাভুক্ত ব্যাংক) কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বুধবার (২৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার (নির্দেশনা পত্র) জারি করে সকল তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে সাধারণ গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক সহযোগিতা না করে নানাভাবে নিরুৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ ‘সঞ্চয়পত্র রুলস, ১৯৭৭’ (জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিধিমালা, ১৯৭৭) অনুযায়ী সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে ব্যাংকগুলোর। এই সেবার মান নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে ব্যাংকগুলোর প্রতিটি শাখায় নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সঞ্চয়পত্র কেনাবেচার সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের হয়রানি ও অসহযোগিতার শিকার হতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নামে অনেক সময় গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরানো হতো। এই ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতেন। সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত সেবা ও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় দিন দিন সন্তুষ্ট গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। গ্রাহকদের এই বিপুল ভিড় সামলাতে মতিঝিল কার্যালয়ের একটি পুরো ফ্লোরই (তলা) বরাদ্দ রাখা হয়েছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রির কার্যক্রমের জন্য।
তবে সম্প্রতি দেশের সামগ্রিক ব্যাংক খাতের সংস্কার ও কার্যপরিধি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি সঞ্চয়পত্র বিক্রিসহ সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চালু থাকা কয়েকটি জনসেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরাসরি সেবা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে অনীহা প্রকাশ করতে শুরু করে এবং গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ বাড়তে থাকে। মূলত এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংকগুলোকে তাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নতুন করে এই কড়া নির্দেশনা জারি করেছে।
জনসাধারণের ক্ষুদ্র সঞ্চয় এবং বিশেষ করে প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র। ফলে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকগুলো এই নির্দেশনা কতটুকু পরিপালন করছে, তা আগামীতে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।