দেশের বাজার ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত টাস্কফোর্স’ (বিশেষ নজরদারি দল) সভা শেষে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং আসন্ন দিনগুলোতে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কৌশল নির্ধারণে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কতিপয় অসাধু ব্যক্তির সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। আমরা বাজার পর্যবেক্ষণ করছি এবং যারা অন্যায়ভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, জ্বালানির দাম বাড়লেও খাদ্যপণ্যের ওপর তার খুব একটা বড় প্রভাব পড়ার কথা নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশে কিছুটা মূল্যস্ফীতি (দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি) দেখা দিলেও প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর যাতে তার চাপ না পড়ে, সেজন্য সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।
নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের হাতে শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) নিয়মিত সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে। বিশেষ করে দুই ঈদকে সামনে রেখে ট্রাক সেলের (ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রি) পরিমাণ বাড়ানো হবে। এছাড়া বিদ্যমান ফ্যামিলি কার্ড বা পারিবারিক কার্ডের আওতা পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি করা হবে যাতে আরও বেশি মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
বাজার তদারকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল প্রশাসন দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এর জন্য জনসচেতনতা প্রয়োজন। কেবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। বর্তমানে দেশে আমদানি করা নিত্যপণ্যের মজুত পর্যাপ্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
তবে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বোতলজাত তেলের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট পরিশোধনকারী ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। পরিশেষে, সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচন করতে সংবাদমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
বাজার সিন্ডিকেট বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি। মন্ত্রীর এই আশ্বাস ও হুঁশিয়ারি সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, এর কার্যকর বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কেবল টিসিবির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়; বরং পাইকারি ও খুচরা বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই হবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি যদি মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাব কার্যকর হয়, তবেই সাধারণ মানুষ সিন্ডিকেটের মরণকামড় থেকে মুক্তি পাবে।