স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিএনপির চারজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অশালীন ও ব্যাঙ্গাত্মক ছবি ছড়ানোর অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ভোররাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ইন্টারনেটে আপত্তিকর মন্তব্য ও ছবি প্রচারের দায়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৫) নামে এক যুবককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মামুন উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক চিত্র (কার্টুন) এবং মানহানিকর ছবি পোস্ট করেন। এই ছবিগুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পীরগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদ পারভীন রিপা বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার ভোররাতে এক্তিয়ারপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামুনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃত যুবকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবারই তাকে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে (জেলহাজত) পাঠানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এই জেলায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অস্থিরতা ছড়ানোর যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হলেও অন্যকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা কুরুচিপূর্ণ উপায়ে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিশেষ করে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে যখন কেউ কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গচিত্র ছড়ায়, তখন তা কেবল ব্যক্তির সম্মানহানি করে না, বরং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেও বিষিয়ে তোলে। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। আইনের শাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে যাতে কোনো ধরণের উসকানি বা অপপ্রচার শান্তি নষ্ট করতে না পারে।