দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দিতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রদান করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে জনবল সংকট দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যেই বড় আকারের এই নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে সাম্প্রতিক নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, জনবল নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিশেষ বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন এবং ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ৯৮ জন সহকারী সার্জন ও ২২ জন ডেন্টাল সার্জন এবং গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ৪৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জন নিয়োগ পেয়েছেন। এসব নিয়োগের ফলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই অধিবেশনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে টিকা (ভ্যাকসিন) ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটায় মোট ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।
ব্যয়ের খাতওয়ারি হিসেবে মন্ত্রী জানান, মোট বরাদ্দ থেকে কেবল টিকা কিনতেই ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া টিকা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ কেনায় ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং এগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হিমাগারে পৌঁছে দেওয়ার পরিবহন খরচ বাবদ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আনা সিরিঞ্জের জাহাজীকরণ মাশুল (শিপিং চার্জ) হিসেবে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৮০ টাকা।
টিকা কেনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েনি। তবে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে দেশের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি আশার আলো। তবে কেবল সংখ্যায় নিয়োগ দিলেই হবে না, নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটুকু স্বচ্ছ এবং এই বিশাল জনবলকে গ্রামগঞ্জের অবহেলিত মানুষের সেবায় কতটুকু নিয়োজিত রাখা যাবে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষ জনবল এবং আধুনিক সরঞ্জামের সমন্বয় ঘটাতে পারলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসা সম্ভব।