Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

সম্মান ও নিরাপত্তাসহ নিজ দেশে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা

Roksana
29 August 2026, 02:03 AM পড়তে ১ মিনিট
সম্মান ও নিরাপত্তাসহ নিজ দেশে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ঘিঞ্জি ক্যাম্পগুলোতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কাটছে রোহিঙ্গাদের বন্দিজীবন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্মম নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এত বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। উল্টো সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। দিনের পর দিন ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা এই মানুষগুলোর কণ্ঠে এখন একটাই আকুতি—শরণার্থী হিসেবে নয়, নাগরিক অধিকার ও পূর্ণ সম্মান নিয়ে নিজ দেশের ভিটেমাটিতে ফিরতে চান তারা।

ক্যাম্পের সীমাবদ্ধ জীবনে মানবিক সংকট, অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতা এখন তাদের নিত্যসঙ্গী। রাখাইন রাজ্যের কুয়ার বিল এলাকার বাসিন্দা হেদায়েতুল জান্নাত বর্তমানে উখিয়ার উনচিপ্রাং ক্যাম্পের বাসিন্দা। অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "মিয়ানমারে আমাদের বড় বাড়ি ও বিস্তৃত ভিটেমাটি ছিল। পরিবার নিয়ে শান্তিতেই ছিলাম। কিন্তু সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে সব ফেলে পালাতে বাধ্য হই। কখনো ভাবিনি এভাবে শরণার্থী জীবন কাটাতে হবে। এখন ঝুপড়ি ঘরে ছয় সন্তান নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটছে। পরিবার বড় হলেও ঘর বড় করার সুযোগ নেই। আমরা সসম্মানে ও নিরাপদে নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে চাই।"

একই আক্ষেপ নুরুল আমিন নামে আরেক রোহিঙ্গার কণ্ঠে। তিনি বলেন, "পৃথিবীর কোনো জাতিই শরণার্থী জীবন মেনে নিতে চায় না। সবাই স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে থাকতে চায়। মিয়ানমারে আমাদের চিংড়ি ঘের ও ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। বাংলাদেশ সরকার আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে, কিন্তু এই ক্যাম্পের জীবন আর ভালো লাগছে না।" বয়োজ্যেষ্ঠ রোহিঙ্গা দিল বাহারও দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানান, ত্রাণ পেলেও এই বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পেয়ে দ্রুত নিজ দেশে ফেরার প্রহর গুনছেন তিনি।

দীর্ঘায়িত এই রোহিঙ্গা সংকট স্থানীয় অর্থনীতি, সমাজকাঠামো ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। হোয়াইক্যং এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন নতুন শিশুর জন্ম হচ্ছে এবং জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিশ্রণ ও বৈবাহিক সম্পর্কও বাড়ছে। সেইসঙ্গে ক্যাম্প ও এর আশপাশের এলাকায় খুন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও অপহরণের মতো অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঝেমধ্যেই স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। তাই দ্রুত প্রত্যাবাসন ছাড়া এই সংকটের কোনো বিকল্প সমাধান নেই বলে মনে করেন তিনি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে নতুন করে আরও ১ লাখ ৫২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। ২০১৭ সালে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখসহ বর্তমানে এই সংখ্যা ১৪ লাখ ছাড়িয়েছে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি এখনও নেই। তবে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংকট সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ক্যাম্পের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক এবং অতিরিক্ত ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) মো. কাউছার সিকদার বলেন, "ক্যাম্পে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়, তার বেশিরভাগই রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, গুটিকয়েক অপরাধীর বাইরে ক্যাম্পের বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই নিরীহ ও শান্তিপ্রিয়।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

সম্মান ও নিরাপত্তাসহ নিজ দেশে ফিরতে চান রোহিঙ্গারা

R
Roksana | 21 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার