গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) বিক্রির দায়ে বিএম এনার্জি নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার দুপুরে এক ঝটিকা অভিযানে ভোক্তা অধিকার লুণ্ঠনের অকাট্য প্রমাণ মেলায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের বাজারে অস্থিরতা রোধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বিএম এনার্জি এলপি গ্যাস প্লান্টে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফয়সাল এবং গাজীপুর সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এই অভিযান চালায়।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল যে, সরকার নির্ধারিত পাইকারি ও খুচরা মূল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ডিলারদের কাছ থেকে সিলিন্ডার প্রতি অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা যখন প্লান্টে হানা দেন, তখন নথিপত্র এবং লেনদেন যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায়, নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে কোম্পানিটি কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে বা প্রভাব খাটিয়ে বাড়তি মুনাফা করছিল।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফয়সাল গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় এই অভিযান অত্যন্ত জরুরি ছিল। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে যারা বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিএম এনার্জিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় করা হয়। এই অভিযানের ফলে স্থানীয় ডিলার ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারের এই তদারকি ব্যবস্থা আগামীতেও নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।
নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য নতুন কিছু নয়। সরকারি সংস্থাগুলো যখন প্রতি মাসে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেয়, তখন মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। গাজীপুরের এই অভিযান প্রমাণ করে যে, যথাযথ তদারকি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে কেবল জরিমানা করাই যথেষ্ট নয়, বরং কেন বারবার এমন আইন অমান্যের ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রয়োজন। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদেরও উচিত সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি না দেওয়া এবং কোনো অনিয়ম দেখলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানো।